ওজন কমানোর সংগ্রাম নিয়ে যা বললেন ন্যান্সি

দেশের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্সি। ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য শ্রোতাপ্রিয় গান উপহার দিয়ে সংগীত জগতে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন। তবে ক্যারিয়ারে কম উত্থান-পতনের ভেতর দিয়ে যেতে হয়নি তাকে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শারীরিক ওজন ও জীবনের নানা সময়ের সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন এই গায়িকা।

খুব কম বয়সেই গানের জগতে ব্যাপক পরিচিতি পান ন্যান্সি। ১৮ বছর বয়সেই বিয়ের পিঁড়িতে বসা এই সংগীতশিল্পীর প্রথম সন্তান রোদেলার যখন জন্ম হয়, তখন তার বয়স ১৯ বছর জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘কন্যার জন্মের পরে তুমুল ব্যস্ততা, স্বাস্থ্যের দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন হল না! সাড়ে চার বছরের মেয়ে নিয়ে সিঙ্গেল মাদার হিসেবে আম্মাকে চিরদিনের জন্য হারালাম। তার ছয় মাসের মধ্যে ওজন ৫৪ কেজি থেকে ৬২ কেজি তে চলে গেল।’

এরপর পরিকল্পনা ছাড়াই দ্বিতীয় বিয়ে, পুলিশের হয়রানি ও দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের কথা স্মরণ করে ন্যান্সি লেখেন, ‘পরিকল্পনা বিহীন দ্বিতীয় বিয়ের পর নায়লার জন্মের দুই মাস আগে আমার রাজনৈতিক ভাবনার উন্মোচনের উপহার হিসেবে পুলিশের হয়রানি! ৬২ কেজি ওজনের আমি ২৫ বছর বয়সে দ্বিতীয় সন্তান জন্মের সময় ৮৩ কেজিতে পৌঁছালাম! হাঁটতে কষ্ট হত, বেশিক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে পারতাম না, শুয়ে থাকলে একা একা এপাশ থেকে ওপাশ ফিরতে পারতাম না।’

দ্বিতীয় মেয়ে নায়লার জন্মের পরে থেকেই তার সংগ্রামী জীবন শুরু হয় বলে জানান। ন্যান্সি বলেন, ‘সংগীতে ক্যারিয়ার তখন নিভু নিভু, বিতর্কের তুঙ্গে আমি। সার্বিক পরিস্থিতির কারণে ১১ কেজি ওজন কোনো চেষ্টা ছাড়াই কমিয়ে তখন আমি ৭২ কেজি। সন্তানদের নিয়ে ব্যস্ত হতে চাইলাম। প্রায় ২৭ বছর ৫ মাস বয়সে তৃতীয় কন্যা আলিনার জন্ম হল এবং জন্মের ১৭ দিন পরে ও মারা গেল।’

পরবর্তীতে তার দ্বিতীয় সংসারটিও ভেঙে যায়। তবে এতকিছুর পরও কখনোই ভেঙে পড়েননি ন্যান্সি। যখনই বাজে পরিস্থিতিতে পড়েছেন, নতুন করে ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। এর মাঝেই ওজন কমানো নিয়ে ঘাম ঝড়িয়ে গেছেন।  শরীরের যত্ন নিয়েছেন, জীবনকে উপভোগ করার চেষ্টা করেছেন।

তৃতীয়বারের মতো গাঁটছড়া বাঁধা প্রসঙ্গে কণ্ঠশিল্পী বলেন, ‘২০২১ সালে তীব্র প্রেমে পরলাম। জীবন আমাকে আবারও সুখী হবার সুযোগ দিল। মাত্র চার মাসের প্রেম শেষে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ৬৬ কেজি ওজনের আমি ধুমধাম করে বিয়ে করলাম। বিয়ের এক বছরের মাথায় ৩৩ বছর ৬ মাস বয়সে অনেক আকাঙ্খার গুনগুন জন্ম নিল। ওজন বেড়ে আবার হল ৭২ কেজি।’

পোস্টের শেষাংশে ওজন কমানো প্রসঙ্গে অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্য ফুটে ওঠে। কণ্ঠশিল্পীর কথায়, ‘ওজন কমানো কোনো ম্যাজিক না। নিজেকে সময় দিন, ডাক্তারের পরামর্শ নিন। অন্যের রুটিন অন্ধের মত ফলো করতে যাবেন না। মানসিক সুস্থতা মায়েদের ভীষণ প্রয়োজন। ঘরে সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করুন। সব মায়েদের জন্য ভালোবাসা।’ 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *