পাকিস্তানে দারিদ্র্য বেড়ে চরমে

সাত বছর পর পাকিস্তানে দারিদ্র্যের হার বেড়ে ২৮.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই সময়ে দারিদ্র্য ৭ শতাংশ বেড়েছে বলে সর্বশেষ পরিসংখ্যান প্রকাশ করে জানিয়েছেন দেশটির পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল।

শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) ইসলামাবাদ-এ এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, দারিদ্র্যের এই ঊর্ধ্বগতি অর্থনীতিতে শৃঙ্খলাবদ্ধ সংস্কারের জরুরি প্রয়োজনের ইঙ্গিত দেয়।

সাত বছর পর হালনাগাদ দারিদ্র্য পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে ফেডারেল সরকার। আহসান ইকবাল জানান, এই সময়ে দারিদ্র্য ৭ শতাংশ বেড়ে জাতীয় হার দাঁড়িয়েছে ২৮.৯ শতাংশে। 

তিনি বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে দারিদ্র্য কমেছিল, কিন্তু গত সাত বছরে পরিস্থিতি আবার উল্টো দিকে গেছে।

নতুন তথ্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রাম—উভয় এলাকাতেই দারিদ্র্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শহরে দারিদ্র্যের হার ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৭.৪ শতাংশ হয়েছে আর গ্রামে তা ২৮.২ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৬.২ শতাংশে পৌঁছেছে।

গত সাত বছরে দেশের চারটি প্রদেশেই দারিদ্র্য বেড়েছে বলে জানান পরিকল্পনামন্ত্রী।

পাঞ্জাব-এ হার ১৬.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ২৩.৩ শতাংশ হয়েছে, সিন্ধ-এ ২৪.৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৬ শতাংশ, খাইবার পাখতুনখোয়া-এ ২৮.৭ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩৫.৩ শতাংশ। আর  সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যপীড়িত বেলুচিস্তান-এ হার ৪১.৮ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

বেড়েছে বৈষম্যও 

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক বৈষম্যও বেড়েছে। তথ্য অনুযায়ী, বৈষম্যের হার ২৮.৪ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২.৭ শতাংশ হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রদেশগুলোর উন্নয়ন বাজেট কেন্দ্রীয় সরকারের তুলনায় তিন গুণ বেশি হলেও দারিদ্র্য ও বৈষম্য উচ্চ পর্যায়েই রয়ে গেছে।

দারিদ্র্য বৃদ্ধির পেছনে নীতির ধারাবাহিকতার অভাব, কোভিড-১৯ মহামারি এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর কর্মসূচিকে দায়ী করেন তিনি। রুপির অবমূল্যায়নের ফলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে সাধারণ মানুষ ‘মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত’ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, দেশকে দেউলিয়া হওয়া থেকে রক্ষা করতে আইএমএফ কর্মসূচিতে যাওয়া জরুরি ছিল। আমরা যদি আইএমএফে না যেতাম, দেশ দেউলিয়া হয়ে যেত।’

তথ্যসূত্র: সামা টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *